বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক : | শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণ ও ধারাবাহিক সংস্কারের অভাবে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, এবং শ্রীলঙ্কার মতো তুলনামূলক সমকক্ষ দেশের চেয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ধারাবাহিক নীতি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে এগিয়ে থাকায় এসব দেশ দ্রুত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের হালনাগাদ আয়ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, জর্ডান ও মাইক্রোনেশিয়া উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। তবে বাংলাদেশ এখনও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবেই রয়ে গেছে, যা প্রতিযোগী অর্থনীতিগুলোর তুলনায় দেশের অগ্রগতির গতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভিয়েতনামের মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (জিএনআই) ৪ হাজার ৯৭০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের জন্য নির্ধারিত ৪ হাজার ৬৩৬ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। একই সময়ে দেশটির রফতানি ১৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ভিয়েতনামের সাফল্যের মূল ভিত্তি হলো রফতানির বহুমুখীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর, মোবাইল ফোন ও প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদনে দেশটি বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ এখনও তৈরি পোশাক খাতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্প, প্রযুক্তিপণ্য এবং ইলেকট্রনিকস খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় রফতানির বৈচিত্র্য সীমিত রয়েছে।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল গণমাধ্যমকে বলেন, ভিয়েতনামের অগ্রগতি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তার মতে, নীতিগত ধারাবাহিকতা, রফতানির বহুমুখীকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে পৌঁছাতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আগামী দশকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে হলে বাংলাদেশকে কাঠামোগত সংস্কার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নতুন শিল্পখাতে বিনিয়োগের গতি বাড়াতে হবে।
Posted ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh